যে ৫ ট্রেন্ড দেখা যাবে ২০২৬ সালে বিশ্ব ফ্যাশনে
কী শৈত্যপ্রবাহ, কী গ্রীষ্মের দাবদাহ—ফ্যাশনের কোনো ছুটি নেই। ২০২৬ সালের ফ্যাশন কেমন হবে, চলুন দেখে নেই-
১. ট্রেন্ডে আছে ট্রেঞ্চ কোট-
শীতে আবারও ট্রেন্ডে উঠে এসেছে হাই ফ্যাশনে অন্যতম অনুষঙ্গ ট্রেঞ্চ কোট। বেশির ভাগই চিরচেনা হালকা বেজ রঙে। তবে কিছু ফ্যাশন হাউস ভেতরের উজ্জ্বল আস্তরণ, ভিন্ন কাপড় ও রং ব্যবহার করে নতুনত্ব এনেছে। ট্রেঞ্চ কোট কখনোই ‘আউট অব ফ্যাশন’ হয় না। তাই মাঝারি দৈর্ঘ্যের একটা ভালো ট্রেঞ্চ কোট কিনলে ঠকবেন না। অনেকবার পরার সুযোগ পাবেন। এছাড়া যে কোনো পোশাকের সাথে পড়তে পারবেন। এতে আপনার লুকটাও অনেক বদলে যাবে।
২. উজ্জ্বল রংয়ের প্রাধান্য-
চলতি বছরের শুরুতেই লন্ডন, প্যারিস, মিলান ও নিউইয়র্কের মতো ফ্যাশন-সিটিগুলোয় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন শোয়ে নামকরা ব্র্যান্ডগুলো আসন্ন বসন্ত/গ্রীষ্ম মৌসুমের জন্য তাদের ডিজাইন দেখিয়েছে।
আমরা সাধারণত বসন্তের ফ্যাশন বলতে ছোট ফুলেল নকশা (ডিটজি ফ্লোরাল) আর শান্ত প্যাস্টেল রঙের কথা ভাবি। কিন্তু এ মৌসুমের র্যাম্পগুলোতে ছিল গাঢ় ও স্পষ্ট ব্লক কালারের আধিপত্য।
লুই ভুতোঁ, গুচি, শ্যানেল, লোয়ে, ব্যালেন্সিয়াগা, ডিওর ও ফেন্ডির মতো বড় ফ্যাশন হাউসগুলোর ক্যাটওয়াকে হলুদ, লাল, সবুজসহ উজ্জ্বল রংধনু রঙের ছড়াছড়ি ছিল। কোথাও কোথাও নাটকীয় প্রভাব আনতে একাধিক রং একসঙ্গে মেলাতে দেখা গেছে।
বেলজিয়ান ডিজাইনার মেরিল রগের শোয়েও চোখধাঁধানো ইলেকট্রিক নীল রঙের পোশাক নজর কেড়েছে। ফুলেল আর অ্যানিমেল প্রিন্টকে পেছনে ফেলে ট্রেন্ডে আছে চেক আর ইংরেজি ‘ভি’ শেপের জিগজ্যাগ শেভরন প্রিন্ট। পাশাপাশি জ্যামিতিক আর ত্রিমাত্রিক প্রিন্টও উঠে এসেছে ট্রেন্ডে।
৩. মিনিমালিজম থেকে ‘লাউড লাক্সারি’-
২০২৫ সালের ট্রেন্ড ছিল ‘কোয়াইট লাক্সারি’। সেখানে আভিজাত্য ও মিনিমালিজমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। মিনিমাল নকশায় একরঙা মানসম্মত কাপড়ের ক্ল্যাসিক পোশাক; যেসব বারবার পরা যায়, সেসব দাপটের সঙ্গে ছিল।
এবার মনে হচ্ছে মিনিমালিজম আর টেকসই ফ্যাশনে হাঁপিয়ে উঠেছে হাই ফ্যাশন। ফ্যাশনের দুনিয়া সেই নান্দনিকতা ছেড়ে ‘লাউড লাক্সারি’র নতুন যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। আসন্ন মৌসুমের শোগুলোয় ম্যাক্সিমালিজম ছিল স্পষ্ট থিম—ঢিলেঢালা গাউন ও স্কার্ট, বিলাসবহুল কাপড় এবং ভারী গয়নার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো।
৪. লেস, ঝালর, ট্যাসেলের ব্যবহার বাড়বে-
কিছু ট্রেন্ড বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণেই ঝালর, লেইস, চুমকি, পুঁতি, ফ্রিঞ্জ, ট্যাসেল যুক্ত পোশাক ও অ্যাকসেসরিজের ব্যবহার বাড়ছে।
ফ্রিল বা কুচির গাউন, স্কার্ট, টপ রয়েছে ট্রেন্ডে। শাড়ির পাড়, কামিজে বা ব্লাউজের হাতায় কুচির ব্যবহার বাড়বে।
৫.করপোরেট ড্রেসিং ট্রেন্ড-
ব্রিটিশ ফ্যাশন ডিজাইনার স্টেলা ম্যাককার্টনি ও ইতালীয় লাক্সারি ফ্যাশন হাউস বোটেগা ভেনেটা নারীদের জন্য ক্ল্যাসিক স্যুটকেই উপস্থাপন করেছে নতুনভাবে। যেখানে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে ১৯৮০-এর দশকের ‘পাওয়ার ড্রেসিং ট্রেন্ড’ থেকে করপোরেট ড্রেসিংয়ে চিরায়ত কালো, নেভি, ধূসর বা বেজের সঙ্গে বারগান্ডি, বাদামি, অলিভ গ্রিন, সফট পিঙ্কও জায়গা করে নিচ্ছে।
ড্রেসের সঙ্গে শার্ট ও জাম্পার বা ভেস্ট লেয়ার করে পরার মাধ্যমে রাশভারী ফরমাল লুকের ‘টোন ডাউন’ করা হচ্ছে। করপোরেট ড্রেসিংয়ে ক্রেপ, টুইল বা সুতির সঙ্গে পলিয়েস্টার, নাইলন মেশানো, ভেলভেট, ডেনিম, লিনেন অথবা এমন কাপড় ব্যবহার করা হয়, যা সহজে কুঁচকে যায় না।
সেই সঙ্গে চলছে মেসেঞ্জার ব্যাগ, ফ্রিঞ্জযুক্ত চামড়া বা সুয়েড ব্যাগ।
সূত্র: বিবিসি