জ্যামিতিক নকশায় গহনা

জ্যামিতিক নকশায় গহনা

বছর দুয়েক ধরে অন্যভাবে দেখা যাচ্ছে জ্যামিতির বৃত্ত, ত্রিভূজ, চতুভূর্জ । কখনও কারও কানে, কখনও গলায়, কখনও বা হাতে জ্যামিতিক নকশার গহনা নজর কেড়ে নিয়েছে বারবার। গাঠনিক নকশার এসব গহনা দীপ্তি ছড়ায় বেশ। এ সময় জ্যামিতিক গহনা জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফ্যাশন সচেতনদের কাছে ...



বিভিন্ন ধাতু থেকে হাজার রকম নকশাতে তৈরি করা হয় গহনা। গহনার নকশা করতে গাঠনিক আর আলঙ্কারিক এই দু'ধরনের মাধ্যমের মধ্য দিয়েই যেতে হয়। তবে গাঠনিকের থেকে আলঙ্কারিক নকশার গুরুত্বই বেশি দেওয়া হয়ে থাকে গহনার ক্ষেত্রে। ব্যতিক্রম কিছুটা চোখে পড়ে যখন আমরা নজর দিই জ্যামিতিক নকশার গহনার দিকে। এ ধরনের গহনাতে গাঠনিক নকশার দিকে গুরুত্ব দিতে হয়। কেননা গাঠনিক নকশার মাধ্যমেই ফুটিয়ে তোলা হয় জ্যামিতিক নকশা। যদিও অলঙ্করণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা যায় জ্যামিতিক মোটিফ। তবুও গহনায় জ্যামিতিক ছোঁয়া মানেই গাঠনিক নকশাতে জ্যামিতিক প্রভাব। গহনার আকারেই চেনা সরলরেখা, বৃত্ত, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, রম্বসকে খুঁজে পাওয়া। জ্যামিতিক নকশার এসব গহনাতে গাঠনিক নকশার ব্যবহার এক ধরনের শক্ত কাঠামো এনে দেয়। তাতেই অন্য গহনা থেকে আলাদা হয় এসব গহনা। জ্যামিতিক গহনার ব্যবহারে চেহারাতে বেশকিছু প্রভাব চোখে পড়ে।

গোল মুখ যাদের, সরলরেখা, বক্ররেখা, ত্রিভুজ আকারের গহনা ব্যবহারে মুখের আকারে প্রভাব বিস্তার করে বেশ নতুনত্ব নিয়ে আসবে। গোল মুখকে মনে হবে কিছুটা লম্বাটে। ঠিক একইভাবে প্রভাব ফেলবে বৃত্তাকার গহনা। লম্বাটে মুখকে অনেকটাই কমনীয় গোলাকার দেখাবে এমন বৃত্তাকার গহনার ব্যবহারে। জ্যামিতিক গহনার এসব প্রভাব বেশ আকর্ষণ করে ফ্যাশন সচেতনদের। মুখের আদলে সামান্য পরিবর্তন নিয়ে আসে ভিন্নতা, তা আমরা কে না জানি।

ফ্যাশন সচেতনদের মাঝে তাই কয়েক বছর ধরে জ্যামিতিক গহনা পেয়েছে প্রাধান্য। কানের দুলের প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সব থেকে বেশি। কানের দুল এখন আর যে কোনো একটি কানে পরে নিচ্ছেন না তরুণীরা। বরং এখন সময় কানের দুলকে প্রাধান্য দিয়ে সাজ পোশাকের। সাজের ক্ষেত্রে সবসময়ই যে কোনো একটি বিষয়কে দেওয়া হয় সর্বাধিক গুরুত্ব। কানের দুল আবার এগিয়ে আছে সে দৌড়ে। এখন ফ্যাশনে আছে বেশ বড় মাপের কানের দুল পরে নেওয়ার চল। মাঝারি থেকে বড় মাপের কানের দুলে ঝুঁকছে ফ্যাশন। আর তাতে সব থেকে বেশি দেখা যাচ্ছে জ্যামিতিক নকশার গহনা। কানে ঝুলে থাকা জ্যামিতি নজর কেড়ে নেয় অনায়াসে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু সরল রেখা, বৃত্ত, ত্রিভুজ কিংবা চতুর্ভুজে আটকে নেই কানের দুলের নকশা। একই সঙ্গে চোখে পড়ে জ্যামিতির প্রধান কয়েকটি উপাদানের মিশ্রণ। দেখা যায় সরলরেখা ধরে ত্রিভুজের দোলা, কিংবা বেশ কয়েকটি অর্ধবৃত্তের একসঙ্গে দল বেঁধে বসবাস।



কানের দুলে এমন গহনার ব্যবহার শুধু যে শাড়ির সঙ্গেই করতে হবে, তা কিন্তু একদম নয়। এসব কানের দুল পরে নিতে পারেন সালোয়ার-কামিজ ও স্কার্ট-টপসের সঙ্গে। তবে কানের দুলের ঝুল যদি হয় আপনার গালের নিচে, তাহলে গলায় আর কোনো গহনা না থাকাই নিয়ে আসবে ছিমছাম সৌন্দর্য। গহনার বাহুল্য যে ছিমছাম সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে দেয় না, তা বলার তো আর অপেক্ষা নেই। উৎসব কিংবা দাওয়াতে গলায় গহনা পরে নেওয়ার চল আমাদের বহু দিনের। এতে সাজে আসে জমকালো ভাব। জ্যামিতিক গহনা যখন বেছে নেবেন আপনার সাজের সঙ্গে, তখন চেষ্টা করুন কানে এবং গলায় একই নকশার গহনা পরে নিতে। এতে ছন্দপতন ঘটবে না, বরং বেশ মানিয়ে যাবে সব গহনা আপনার সঙ্গে।

জ্যামিতিক গহনার ক্ষেত্রে গলার সঙ্গে লেগে থাকা কোনো হার যদি পরতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন ক্ষুদ্র নকশা থেকে মাঝারি ধরনের নকশা করা হার। এড়িয়ে যাওয়া ভালো হবে প্রস্থ বেশি এমন ধরনের গহনা। এমন গঠনগত নকশাতে বাড়তি অলঙ্করণের সময় নজর রাখুন তা যেন খুব বেশি বাহুল্যযুক্ত হয়ে না যায়। মুক্তা কিংবা হালকা কুন্দন এ ক্ষেত্রে আপনাকে এনে দিতে পারে বাড়তি সৌন্দর্য। তবে শুধু গঠনগত নকশায়ও আপনাকে মানিয়ে যাবে বেশ।

হাতের গহনার ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন একটু মোটা ধরনের বালা। আর যদি ব্যবহার করতে চান নিত্যদিনের প্রয়োজনে, তাহলে চিকন চুড়িতেই মানিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে বরং মোটা বালা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো হবে। হাতের আঙুলে পরতে পারেন আংটি। আংটিতে বৃত্তাকার নকশা নিয়ে আসবে আভিজাত্য। দাওয়াত কিংবা উৎসবে বড় বৃত্তের গহনা পরা যেতে পারে। কিন্তু রোজকার সাজে ছোট বৃত্তের গহনাতেই মানিয়ে যাবে। কেননা বড় বৃত্তের গহনা আপনাকে কাজে স্বস্তি এনে দিতে পারবে না তেমনভাবে। তাই মাঝারি থেকে বড় নকশার আংটি এড়িয়ে চলুন নিত্যদিনের সাজ পোশাকের সঙ্গে। বরং পরে নিন হালকা নকশার আংটি। ভারী নকশার, মাঝারি কিংবা বড় আকারের বৃত্তাকার, ত্রিভুজাকার, কিংবা চতুর্ভুজাকার গহনা বরং তোলা থাকুক দাওয়াতে অথবা উৎসবে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। জ্যামিতিক নকশার গহনার সঙ্গে সাজের বিষয়ে থাকতে হবে সচেতন।

 

গহনার গোছানো নকশার প্রভাব সাজেও ধরে রাখলে বেশ স্নিগ্ধ এক রূপ চলে আসবে। বাহুল্য এক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে অনায়াসেই। হালকা মেকআপে সেজে উঠতে পারেন। চোখে বুলিয়ে নিতে পারেন কাজলের প্রলেপ। আর ঠোঁটে লিপস্টিক। রঙ হতেই পারে উজ্জ্বল কিংবা হালকা। মানিয়ে যাবে এমন গহনার সঙ্গে। চুল খোলা রাখতে পারেন, অথবা গুছিয়ে নিতে পারেন মেসি বানে। গহনার নকশার সরল দীপ্তি আপনাকে অনন্য করে তুলবে। ফ্যাশন সচেতন জ্যামিতিক নকশার গহনার পরশে আপনার রূপের ঝলক বেশ লাগবে অন্যদের কাছে।

 

সূত্রঃ দৈনিক সমকাল

ছবিঃ সংগৃহীত