২০২৬ এ এসে বিয়ের সাজ কেমন !
যুগ যুগ ধরে সেই যে লাল বেনারসি-শিফনের ওড়না আর কপালে কুমকুমের সাজ, কনের এই সাজে কালের বিবর্তনে পরিবর্তন এসেছে অনেক। বর্তমান ট্রেন্ড কখনও জমকালো কারচুপির কাজ করা শাড়ি, জড়োয়া গহনা, তো কখনও একেবারে দেশীয় ঐতিহ্যের মসলিন-জামদানিতে। তবে বর্তমানে বর-কনের জমকালো বিয়ের সাজপোশাকের ট্রেন্ড থেকে বের হয়ে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয় সাজপোশাকের। বাদ যায় না বিয়ের সাজও। এ বছর বিয়ের সাজ ও অলংকারের ট্রেন্ড নিয়ে লিখেছেন রিয়ানা ইসলাম রিম্পা
এখন কেমন বিয়ের সাজ-পোশাক-
জানতে চাইলে বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, বিয়ের পোশাকের ক্ষেত্রে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেই আমরা প্রাধান্য দিয়ে থাকি। অন্য পোশাকের মতো আমরা যারা দেশীয় ফ্যাশন নিয়ে কাজ করি তারা বিয়ের পোশাকেও নিজস্ব ঐতিহ্যকেই ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করি। এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে, কিছু মানুষ বিয়ের আয়োজনে বিদেশি সাজপোশাক ব্যবহার করে, এমনকি আচার-অনুষ্ঠানেও বিদেশি সংস্কৃতি অনুসরণ করে থাকে। এটা নিজের দেশের সংস্কৃতির প্রতি আসলে খুব সম্মান দেখানো হয় না। আমরা সেটা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে এসে নিজেদের সংস্কৃতির মধ্যে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছি। আমাদের যা আছে তা দিয়েও যে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা যেতে পারে, এই আস্থাটা ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের কাতান, বেনারসি, মসলিন, জামদানি এসবই অত্যন্ত গর্জিয়াস। এগুলোতেই ব্রাইডাল মুড দিয়ে দারুণ সব পোশাক তৈরি করা সম্ভব। মোটিফ হিসেবেও আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি পোশাকে আনতে পারি। ডিজাইনে বৈচিত্র্য থাকতে পারে। যদি কেউ লেহেঙ্গা পরেই, সেটা তো আমাদের জামদানি, মসলিন দিয়েও বানানো যায়। বিয়ের পোশাকের ক্ষেত্রে আমরা আসলে এখনও কনের পোশাকটাতেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
একটা দীর্ঘ সময় ধরে কনের সাজ মানেই লাল বেনারসি ছিল। যদিও এটা এখন পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ভালোলাগা আর ঐতিহ্য কিন্তু লাল টুকটুকে কনেই ধারণ করে। কনেরা বিয়ে, বৌভাতের অনুষ্ঠানে এখন শুধু লাল রঙে আটকে নেই। গোলাপি, পিচ, পার্পেল, আকাশি, পেস্ট কালারের শাড়িও দেখা যায় কনের সাজে। তেমনি বরের পোশাকেও এখন অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। পানচিনি, গায়েহলুদ, বিয়ে, বৌভাত, সব অনুষ্ঠানেই আজকাল কনের পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে বরের পোশাক তৈরি করা হয়। এতে দেখতে ভালো লাগে। ছবিও সুন্দর হয়। আর একটা বিয়েতে শুধু যে বর-কনের পোশাক কেনা হয় তা তো নয়। পরিবারের সবার এবং আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনা হয় নতুন পোশাক। সে ক্ষেত্রেও দেশি পোশাকটাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। একটা কথা ভুললে চলবে না, আমাদের সংস্কৃতিকে আমাদেরই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
বিয়ের সাজে গহনা-
এ বছর বিয়ের সাজে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মেকআপে ন্যাচারাল, ফটোজেনিক ফিনিশলুক। বিয়ের সাজ থাকছে কালারফুল কিন্তু ক্লিন লুক। সেই সঙ্গে ক্লাসিক গ্ল্যামার এবং আধুনিক ফিনিশ। বিয়ের সাজের সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড হলো মডেল-মেকআপ লুক। ভারী হলেও মুখ যেন ‘মেকআপড’ না লাগে এই ব্যালান্সটাই এখন মূল কথা।
শোভন মেকওভারের কসমেটোলজিস্ট শোভন সাহা বিয়ের সাজ প্রসঙ্গে বলেন, এখন বিয়ের অনেকগুলো প্রোগ্রাম তাই সব ধরনের সাজই মানুষ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে ইন্ডিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের সাজ খুবই পছন্দ করেন। এ ছাড়া ফরেন কালচারের সাজও ট্রেন্ডি এখন। শীতকালের বিয়েতে লাল, মেজেন্টা, সোনালি, হেভি ব্লু গাড় রঙের পোশাকের সঙ্গে জুয়েলারি ড্রেসের ম্যাচ বা কনট্রাস্ট করেই পরার পরামর্শ দেন শোভন সাহা। সাজ নিয়ে তিনি বলেন, বিয়ের মেকআপ পুরোটাই নির্ভর করে ড্রেস আর কনের লুকের সঙ্গে কেমন সাজ যাবে তার ওপর। এ ক্ষেত্রে কনের মেকআপ আর্টিস্ট বা এক্সপার্টই তার জন্য পারফেক্ট লুক সাজেস্ট করবেন। ফুল কভারেজ কিন্তু স্কিন, লাইট ফাউন্ডেশন, সফট কনট্যুর ও হাইলাইট, আই মেকআপে ব্রাউন বা কপার টোন, রেড, ওয়াইন বা ডিপ রোজ লিপ। তিনি আরও বলেন, এখন কনের পাশাপাশি অনেক বরও মডেল-মেকআপ লুক নিচ্ছেন। এই লুক ক্যামেরায় খুব ফটোজেনিক হয়, মুখের ছোটখাটো দাগ বা ক্লান্তি ঢেকে দেয় কিন্তু দেখতেও ন্যাচারাল লাগে। এ ছাড়া ক্যামেরায় মুখ আরও শার্প ও ফ্রেশ দেখায়।
২০২৬ সালের বিয়ের সাজ মানে আর একটাই লুক নয়। ভিন্ন অনুষ্ঠানে ভিন্নরকম সাজই এখন ট্রেন্ড। পোশাক, অলংকার ও মেকআপ সবকিছুর মাঝে যদি থাকে স্বস্তি ও নিজের মতো করে সাজা, তাহলেই সেই সৌন্দর্য সবচেয়ে আলাদা হয়ে ওঠে জীবনের বিশেষ দিনটিতে।
সংগ্রহ-দৈনিক আমাদের সময়