বৈশাখের সাজ-৩

বৈশাখের সাজ-৩

কেমন হবে এবারের বৈশাখী সাজ? আধুনিক ট্রেন্ডে মাতবেন নাকি সাজবেন চিরায়ত লাল-সাদার সাবেকি সাজে। সমাধান দিয়েছেন রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন।

 

বর্ষবরণে অনেকেই এখন একেক বেলায় ভিন্ন ভিন্ন পোশাকে সাজতে চান। বেশির ভাগ তরুণী সকালবেলার সাজে শাড়ি বেছে নেন। পোশাক শাড়ি, কামিজ অথবা কুর্তি—যাই হোক, রংটা কিন্তু পহেলা বৈশাখের হওয়া চাই। লাল-সাদার বাইরে অন্য উজ্জ্বল রঙেরও যোগসাজশ থাকলে খারাপ হবে না। কারণ বৈশাখ মানেই রঙের ছটা।

 

বৈশাখের সাজে বাঙালিয়ানার কোনো বিকল্প নেই। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজ পরিকল্পনাটা সেরে নিতে হবে চটজলদি। কারণ সাজতে যত দেরি হবে বাইরে রোদের তীব্রতাও তত বাড়বে। পহেলা বৈশাখে যতটা সম্ভব রোদকে ফাঁকি দিয়ে ঘোরাঘুরি সেরে ফেলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

 

পরনে রঙিন পোশাক আর বাইরে চড়া রোদ, তাই চেষ্টা করুন সাজটা যেন হালকা হয়। আগের রাতে স্ক্রাবার দিয়ে ম্যাসাজ করে ত্বকের মরা কোষ তুলে ফেলুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেস মাস্ক লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে নিন। মুখ মুছে প্রথমে টোনার, তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগান। রাতের এই প্রস্তুতি পরদিন মেকআপ সহজেই ত্বকে মিশে যেতে সাহায্য করবে। সকালে ত্বক পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন লাগিয়ে তারপর বেইজ শুরু করুন। সারা দিনের জন্য সাজকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রাইমার ব্যবহার করুন। এটি ঘাম থেকেও সুরক্ষা দেবে। বাইরে ঘুরে বেড়াতে চাইলে বেইজ মেকআপ ভারী না করাই ভালো। শুধু বিবি অথবা সিসি ক্রিম ব্যবহার করুন। ত্বকে দাগছোপ থাকলে আগে কনসিলার দিয়ে ঢেকে নিন। এরপর হালকাভাবে কম্প্যাক্ট বা প্রেসড পাউডার বুলিয়ে নিন। ফাউন্ডেশন লাগাতে চাইলেও আপত্তি নেই। তবে ব্যবহারের আগে দেখে নিন সেটা তেল ও পানি নিরোধক কি না।

 

 

 

কাজল আর টিপ ছাড়া বৈশাখের সাজ অসম্পূর্ণ মনে হয়। এই আবহাওয়ায় পানিনিরোধক কাজল বেছে নেওয়া ভালো। গরম আর ঘামে কাজল ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে টিপ পরুন। এখন টিপেও অনেক বৈচিত্র্য। পোশাকের থিমের সঙ্গে নকশা মিলিয়ে হ্যান্ড পেইন্টের টিপ পরতে পারেন। রঙিন নকশাদার স্টোনের টিপও বৈশাখী সাজে সুন্দর দেখাবে। গয়না ছাড়া শাড়ি একেবারে বেমানান। শাড়ির সঙ্গে মাটির গয়না বেছে নিতে পারেন। মাটির মালা লম্বা হলে ভালো। কাঠ, রুপা, মুক্তা বা তামার মালাও পরতে পারেন। ভারী গয়না পরতে না চাইলে ফুলের মালা বেছে নিতে পারেন। হাতভর্তি চুড়ি এ সময় সুন্দর মানায়। গয়না যদি না-ও পরেন দুই হাতভর্তি চুড়ি সেই অভাব দূর করে দেয়। শাড়ির পাড়ের সঙ্গে মিলিয়ে রেশমি চুড়ি পরুন। গরমে চেহারায় একটু বাদামি উজ্জ্বলতা নিয়ে আসতে পছন্দ করেন এখনকার তরুণীরা। এটি গরমের ট্রেন্ডও। এ জন্য বেশি কিছু করার দরকার নেই। ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে কনট্যুরিং করে নিন। মনে রাখতে হবে, ত্বকের রঙের চেয়ে গাঢ় শেডের পাউডার বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই বাদামি ভাব আনতে গোলাপি শেডের ব্লাশঅন লাগান। এটা না করে সামান্য পিচ শেডের ব্লাশঅন করুন। সময়টা যেহেতু অনেক গরম, সে জন্য সাজের ক্ষেত্রেও কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। চোখের সাজের আগে প্রাইমার ব্যবহার করুন। এটা করলে সাজ রোদে ঘেমে গলে যাবে না।

 

চোখের সাজের বেলায় আপনি কী রঙের পোশাক পরছেন সেটাকে প্রাধান্য দিন। পোশাক যে রঙের হবে সেই রঙে চোখ সাজালে মানাবে ভালো। অনেক দিন ধরেই উৎসবে স্মোকি সাজে চোখ সাজাতে পছন্দ তরুণীদের। চাইলে এটাও করতে পারেন। যদি নতুন লুক আনতে চান, তাহলে এক বা দুই-তিন রঙের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে চোখের কোল ঘেঁষে কাজলের সঙ্গে পছন্দের রং মিশিয়ে দিতে পারেন। চোখের ওপরে বা নিচে কাজল অথবা আইলাইনার ব্যবহার করুন। চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগিয়ে নিন। ঠোঁটের রঙের বেলায়ও চোখের রংকে প্রাধান্য দিতে হবে। যেহেতু গরম, তাই সহজে গলে না এমন লিপস্টিক লাগানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এবার চেহারার উঁচু-নিচু অংশগুলো মিলিয়ে নেওয়ার পালা। এর জন্য হাইলাইটার ব্যবহার করুন। সারা দিন মেকআপ ধরে রাখতে মেকআপ সেটিং স্প্রে অনেক কাজের। মেকআপ শেষে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন। যদি খুব সকালেই বের হন তাহলে চুল খোলা রাখাই ভালো। রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলে খোঁপা করে নিতে পারেন। তপ্ত রোদে বাঁধা চুলের বিকল্প নেই।

 

 

সন্ধ্যার দিকে চোখের সাজটা গাঢ় হতেই পারে। স্মোকি আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। বিকেলের পর হাইলাইটার হিসেবে চাইলে একটু শিমার ব্যবহার করতে পারেন। সঙ্গে পছন্দের রঙের লিপস্টিকও। শাড়ির সঙ্গে হিলটাই বেশি মানানসই। অনেকেই হিল পরে স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারেন না। হিল পরতে অসুবিধা হলে স্লিপার পরুন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে হাতব্যাগ বেছে নিন। বাইরে বের হওয়ার সময় ব্যাগে পাউডার, আয়না, চিরুনি, লিপস্টিক আর পানির বোতল নিতে ভুলবেন না। এতে প্রয়োজনমতো সাজটা সহজেই ঠিক করে নিতে পারবেন। ব্যাগ যাতে বেশি ভারী না হয় সেদিকেও লক্ষ রাখুন। প্রচুর পানি পান করুন। তাজা ফল, ডাবের পানি বেশি করে পান করুন। সারা দিনে বাড়তি সতেজতার জন্য ব্যবহার করতে পারেন পছন্দের কোনো সুগন্ধি।

 

 

 

 

 

 

 

সূত্রঃ দৈনিক কালের কন্ঠ